ব্যারিষ্টার সুমন এর জীবনী (Barrister Sumon)

সততা, সংগ্রামী এবং মানবতা এই তিন যুদ্ধেই জয়ী, মানবসেবায় নিজেকে উজাড় করে দিতে যিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না, কোটি মানুষের মন জিতে নিয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, হবিগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ব্যারিষ্টার সুমন নামেই বেশি পরিচিত তিনি। তাঁর সংগ্রামী জিবনে কখনো কুলি, কখনো ড্রাইভার থেকে জনমানুষের নেতা হওয়ার পথটা খুব সহজ ছিল না। আজকে আমরা তারই জীবনের নানা বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে যুদ্ধ জয় করার গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর পরিচয়:

৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ সালে হবিগঞ্জ এর চুনারুঘাটের পিরবাজার গ্রামে জন্ম নেওয়া সুমন ছিলেন ৬ ভাই বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ। বাবা এরশাদ সামান্য একজন ব্যাবসায়ী, মা আম্বিয়া খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ছোট বেলা তেমন ভালো কাটে নি ব্যারিষ্টার সুমনের।  অভাব অনটনের মধ্যেই কেটে যায় তাঁর শৈশবকাল। স্কুলজীবন তার চুনারুঘাটেই শেষ হয়।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মার্কেটিং নিয়ে পড়াশুনা করেন। এরপর সুমন পাড়ি জমান ইংল্যান্ড এ। কিন্তু সেখানে গিয়েও পড়েন অর্থকষ্টে। অর্থকষ্ট লাঘবে তিনি সেখানে কখনো কুলি, কখনো গাড়ির ড্রাইভার ও হয়েছেন। এতসব কষ্টের মাঝেও সাইয়েদুল হক তার পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করেন। এরপর তার সামনে আসে নানারকম সুযোগের হাতছানি।

সেখান তাঁর ফুপাতো বোন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব ও দেন এবং ইংল্যান্ড এই চিরস্থায়ী বসবাসের অনুরোধ করেন। কিন্তু দেশপ্রেমিক সুমন এর সামনে এগুলো কিছুই না। তিনি চান সারাজীবন তার দেশকে সেবা দিতে, মাটির দেশের মানুষের কাছাকাছি থাকতে। তাকে কোনো প্রলোভন ই পিছু টানতে পারে নি। তিনি চলে আসেন দেশে। এরপর সুমন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ব্যারিষ্টার সুমন সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর বাড়ি কোন জেলায়?

ব্যারিষ্টার সুমন এর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পীরগঞ্জ গ্রামে। ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ সালে নিজ বাড়িতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল তার চুনারুঘাটেই কাটে। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর শিক্ষাগত যোগ্যতা:

চুনারুঘাট কেজি স্কুল প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন ব্যারিষ্টার সুমন। এরপর ডিসিপি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। কলেজ জীবন শেষ করেন ঢাকা কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ 

মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। এখানেই পড়াশোনার ইতি ঘটান নি তিনি। পড়াশোনার জন্য সুদূর বিলেতে পাড়ি জমান। সেখান তিনি ব্যারিস্টারি পাশ করেন।

সায়েদুল হক সুমন এর কর্মজীবন:

সায়েদুল হক সুমন বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে এসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর এ তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগ এর আইন বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

 

ব্যারিষ্টার সুমন এর বিবাহিত জীবন:

ব্যারিষ্টার সুমন এর দাম্পত্য সঙ্গী শাম্মী আক্তার। ব্যারিষ্টার সুমন ও শাম্মী আক্তার দম্পত্তির ছেলেমেয়ে ২ জন। স্ত্রী শাম্মী আক্তার ও ছেলেমেয়ে বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর প্রেম কাহিনি:

ব্যারিষ্টার সুমন বিশ্ববিদ্যালয় জিবনে একবার প্রেমে পড়েছিলেন। তবে সে প্রেম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই ইতি ঘটে যায় জীবনের তাগিদে। বিলেতে পড়াশোনা শেষে তার ফুপাতো বোন ও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিলেতে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি দেশের টানে বিলেতে না থেকে চলে আসেন এবং দেশেই বিয়ে করেন। তবে বর্তমানে ব্যারিষ্টার সুমন এর স্ত্রী শাম্মী আক্তার ও আমেরিকা প্রবাসী। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর ফুটবল প্রেম: 

ছোটবেলা থেকেই ফুটবল এর প্রতি আলাদা এক টান ছিল ব্যারিষ্টার সুমন এর। এই ফুটবলপ্রেমের কারণে তিনি নিজ এলাকায় ব্যারিষ্টার সুমন ফুটবল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় ফুটবল দলের উন্নয়নেও কাজ করতে আগ্রহী তিনি। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর রাজনৈতিক পরিচয়:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াকালীন সময়েই সুমন এর রাজনীতিতে পদার্পণ ঘটে। এ সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পড়ার সময় তিনি নিজ এলাকায় যেতেন দলীয় প্রচার এর জন্য। মাঝে বিলেতে পড়াকালীন সময়ে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও পড়া শেষে ফিরে এসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

ব্যারিষ্টার হওয়ার সুবাদে সায়েদুল হক সুমন কেন্দ্রীয় যুবলীগ এর আইন বিষয়ক সম্পাদক হওয়ার সূযোগ পেয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের আওয়ামী লীগের সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইগল প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হবিগঞ্জে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন মাহবুব আলী। তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা সায়েদুল হক সুমন ৯৯ হাজার ৫৫৬ ভোটের ব্যাবধানে হবিগঞ্জ ৪ আসনে জয় লাভ করেন। 

বারিস্টার সুমন জনপ্রিয় কেন?

ব্যারিষ্টার সুমন এর রাজনৈতিক জিবনে পদার্পণ করার উদ্দেশ্যই ছিল মানুষকে কাছে থেকে সাহায্য করা। তিনি তার বহু জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য সাধারন মানুষের হৃদয় এ জায়গা করে নিয়েছেন। সাধারন মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গেছেন। একজন এমপি হয়েও তার ছিল না কোন উন্নত জীবনযাপনের ইচ্ছা।

চা বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিজ উদ্যোগে ৪৯ টি ছোট বড় ব্রিজ এবং অনেক রাস্তা নির্মাণ করেছেন। রাতে সাধারন মানুষের সদ্মবেশে রিকশাতে করে ঘুরে ঘুরে গরীব মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন। সিলেটে ভয়াবহ বন্যায় নিজের অর্থ খরচ করে অনেক মানুষকে সহায়তা করেন সুমন। এসব কাজের জন্য খুব সহজেই জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। তাই এবারের দ্বাদশ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপর ই তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৃতপ্রায় খোয়াই নদী উদ্ধর্করমে ৬০০ জন বিডি ক্লিন এর সাহায্য নিয়ে নিজেই কাজে নেমে পড়েন সায়েদুল হক সুমন।

হবিগঞ্জ এর মানুষের ৪০ বছরের স্বপ্ন একবারেই বাস্তবায়ন করে দিলেন ব্যারিষ্টার সুমন। খোয়ায় নদীর পাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরির ঘোষণা ও দিয়েছেন তিনি। সর্বদা দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। এমনকী মানবসেবা করতে গিয়ে নিজের পরিবারকেও সময় দিতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সন্তানরা। ফুটবল তার প্রিয় হওয়ায় বাংলাদেশের ফুটবলকেও তলানি থেকে তুলে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

ব্যারিষ্টার সুমন এর নির্বাচনী এলাকা: 

ব্যারিষ্টার সুমন এর নির্বাচনী এলাকা হলো হবিগঞ্জ জেলা। তিনি এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের ৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্যারিষ্টার সুমন কত ভোট পেয়েছেন?

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইগল প্রতীক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিষ্টার সুমন পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ভোট, অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী পেয়েছেন ৪৭ হাজার ভোট। এ হিসেব অনুযায়ী সায়েদুল হক সুমন ৯৯ হাজার ৫৫৬ ভোটের বিশাল ব্যাবধানে হবিগঞ্জ ৪ আসনে জয় লাভ করেন। 

ব্যারিষ্টার সুমন কোন মন্ত্রী?

বর্তমানে তিনি কোন মন্ত্রী পদে নেই। ব্যারিষ্টার সুমন এক সাক্ষাৎকারে বলেন কোন মন্ত্রী না হয়েই আমি ৪৯ টি ব্রিজ বানাইছি। তিনি এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুমুল জনপ্রিয়তম জন্য বিমান ও পর্যটনপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীকে ধরাশায়ী করেছেন।

ব্যারিষ্টার সুমন এর ফেসবুক:

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংসদ সদস্য ফেসবুক ইনফ্লুয়েসার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। ব্যারিষ্টার সুমন এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ Barrister Sayed Sayedul Haque suman, যার বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা ৫.৭ মিলিয়ন। সায়েদ সুমনের অতি সাধারন জীবনযাপনের জন্য অনেক সাধারন মানুষই তার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ পেয়েছেন। আপনারা অনেকেই ব্যারিষ্টার সুমন এর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছেন বিভিন্ন কারণে। কেউ কেউ আবার ব্যারিষ্টার সুমন এর ফোন নম্বর ও খুজছেন। কিন্তু তার ব্যাক্তিগত ফোন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায় না। তার সাথে যোগাযোগ করতে হইলে তার এলাকা হবিগঞ্জের চুনারুঘাট অথবা ঢাকা যেখানে থাকেন সেখানে গিয়ে খোজ নিলেই তার দেখা মিলতে পারে।

পরিশেষে, ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন তার মানবসেবার কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। বর্তমানে আবারো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তার এলাকার মানুষের আশা তার হাত ধরেই একদিন হবিগঞ্জ ও হবিগঞ্জের মানুষ অনেক উন্নতি লাভ করবে। 

Leave a Comment